দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ ফেব্রুয়ারি: তাঁর হাতে তৈরি হাজার হাজার প্রজাতির গোলাপ শুধু দেশ নয়, পৃথিবী বিখ্যাত। খড়্গপুরের সেই বিখ্যাত গোলাপ ব্যবসায়ী তথা ‘পুষ্পাঞ্জলি’ নার্সারির কর্ণধার প্রণবীর মাইতিই এবার দেশের সেনাবাহিনীকে সম্মান জানিয়ে এবং অপারেশন সিঁদুর অভিযানের সাফল্যকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুত করলেন বিশেষ প্রজাতির লাল টকটকে গোলাপ ফুল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনুমোদন নিয়ে নতুন প্রজাতির এই গোলাপের নামও তিনি রেখেছেন ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভালোবাসার দিন (ভ্যালেন্টাইনস ডে)-কে সামনে রেখে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খড়্গপুর গ্রামীণের জকপুরে অবস্থিত ‘পুষ্পাঞ্জলি’ নার্সারিতে বিশেষভাবে প্রস্তুত সেই গোলাপ ফুলের উদ্বোধন করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের ব্রিগেডিয়ার সুবীর সোধি সহ সেনা জওয়ানরা।


বিশেষ সেই গোলাপ ফুলের চারা এদিন সেনাবাহিনীর হাতে অর্পণ করেন প্রণবীর বাবু। যথাযথ যত্ন ও মর্যাদার সাথে সেনাবাহিনীর গাড়িতে চাপিয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামাঙ্কিত সেই গোলাপ ফুলের চারা নিয়ে কলকাতার সদর দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ইস্টার্ন কমান্ডের জওয়ানরা। প্রণবীর বাবু জানান, ‘এ এক গর্বের অধ্যায়! এর আগে হাজার হাজার প্রজাতির গোলাপ তৈরি হয়েছে আমাদের বাগানে। কিন্তু, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামাঙ্কিত এই গোলাপ ফুল ফুটিয়ে তোলা এবং সেই চারা গাছ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অনুভূতি সত্যিই অভূতপূর্ব। সেটাও আবার ভ্যালেন্টাইনস ডে’র প্রাক্কালে! আমরা গর্বিত।’

ফুলের নামকরণ ‘অপারেশন সিঁদুর’ কেন? প্রণবীর বাবু বলেন, ‘ভালোবাসার দিন (ভ্যালেন্টাইনস ডে)-কে সামনে রেখে আমরা প্রতি বছরই নতুন কোন প্রজাতির গোলাপ তৈরি করি। এবার এই গোলাপ ফুলটি আমরা তৈরি করি। ভরতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যে আমরা সকল দেশবাসী গর্বিত। তাই লাল টকটকে, বিশাল সাইজের এই গোলাপ ফুলের নাম ‘অপারেশন সিঁদুর’ রাখার কথা ভাবি। এরপর আমাদের এক শুভানুধ্যায়ীর সহযোগিতায় এই নামের অনুমোদনের জন্য ভারতীয় সেনার দ্বারস্থ হই। তাঁরা খুশি হয়ে শুধু অনুমোদনই দেননি, জানান, এই ফুলের উদ্বোধনও ভারতীয় সেনারাই করবেন। সেইমতোই শুক্রবার বিকেলে আমাদের নার্সারিতে এসেছিলেন ইস্টার্ন কমান্ডের ব্রিগেডিয়ার সুবীর সোধি সহ জওয়ানরা।’ প্রণবীর বাবুর এই কীর্তিতে গ্রামবাসী হিসেবে তাঁরাও যে গর্বিত, তা জানান এলাকার বাসিন্দা সত্যজিত প্রধান সহ অনেকেই। প্রণবীর বাবুর মেয়ে এলিনা, জামাতা আশিস বলেন, ‘আমাদের নার্সারির গোলাপ চারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। তবে, এদিনের এই অনুভূতি অত্যন্ত গর্বের!’











