দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ জুলাই: তেলঙ্গানার সঙ্গারেড্ডি জেলার সিগাছি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর থেকেই নিখোঁজ পশ্চিম মেদিনীপুরের দুই শ্রমিক। ওই কারখানায় কাজ করতেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার হরিরাজপুর গ্রামের চারজন। তাঁদের মধ্যেই অসীম টুডু (৩৯) এবং শ্যামসুন্দর টুডু (২৮)-র খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না সোমবার (৩০ জুন) সকাল (৯টা নাগাদ) থেকে। শ্যামসুন্দরের বাবা তারাপদ টুডু (৫৫) স্থানীয় একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ওই সময় ডিউটি না থাকায় প্রাণ রক্ষা হয় বছর ৩৩-র রাজীব টুডুর। একই পাড়ার বাসিন্দা চারজন একসঙ্গে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। ঘটনার পর থেকেই তাই ঠান্ডা মাথায় পুরো পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন রাজীব। তাঁর মাধ্যমেই অসীম, শ্যামসুন্দরদের পরিবারে খবর পৌঁছয়। জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বুধবার ভোর ৫-টা নাগাদ পরিবারের লোকজন তেলেঙ্গানাতে পৌঁছে যান। তবে, মৃতদেহ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন রাজীব। আর সেজন্যই তেলেঙ্গানা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। রাজীব বলেন, “মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ পরিবারের লোকজন রক্ত দিয়েছেন। মৃতদেহগুলি ছিন্নভিন্ন ও বিকৃত হয়ে গিয়েছে। তাই দেহ সনাক্ত করার জন্য এছাড়া আর কোন উপায় ছিল না বলে জানিয়েছে প্রশাসন।”

প্রসঙ্গত,দাসপুরের হরিরাজপুরের যুবক রাজীব ওই কারখানায় প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করছেন বলে জানান। অসীম ওখানে একবছর ধরে কাজ করছিল। আর, জুন মাসের ১০ তারিখ রাজীবের হাত ধরেই ওই কারখানায় কাজ করতে যান তাঁর কাকা তারাপদ এবং তারাপদ’র ছেলে শ্যামসুন্দর। রাজীব বলেন, “ঘটনার দিন (সোমবার) সকাল ৮টা নাগাদ আমার ডিউটি শেষ হয়। তারপর কারখানার কাছেই আমাদের ভাড়া বাড়িতে ফিরে যাই। ওদের তিনজনের ডিউটি ছিল। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বিস্ফোরণের খবর শুনে ছুটে গিয়ে দেখি, দাউ দাউ করে জ্বলছে সবকিছু! আমি একা। কি যে করবো খুঁজে পাচ্ছিলাম না! পরে একটি হাসপাতালে কাকু (তারাপদ টুডু)-কে খুঁজে পাই। যদিও, কাকুর অবস্থা ভালো নয়! শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি পুড়ে গিয়েছে। কিন্তু, ওদের দু’জনকে কোথাও খুঁজে পাইনি। এদিক মৃতদেহগুলির অবস্থাও চেনার মত নয়! তাই ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি, মিলে যায়!”
রাজীব এও জানান, “কোম্পানির তরফ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। মৃতদেহের সাথে এক লক্ষ টাকা করে পরিবারকে এখন দেওয়া হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পরে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।” তবে, রাজীব এখনই বাড়ি ফিরতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যতদিন কাকু (তারাপদ) এখানে চিকিৎসাধীন থাকবেন। ততদিন আমাকেই থাকতে হবে। সবকিছু করতে হবে। সব দায়িত্বতো এখন আমারই!” ঘাটালের মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, “আমরা অসহায় পরিবারগুলির পাশে আছি। বুধবার আমরা ওঁদের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেও এসেছি। পরিবারের যাঁরা তেলেঙ্গানায় গিয়েছেন, তাঁদের সাথে যোগাযোগ রেখেছি।”