দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৮ সেপ্টেম্বর: অবৈধভাবে বালি উত্তোলন এবং বালি পাচার বন্ধে নজিরবিহীন সাফল্য পেয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই জেলাজুড়ে প্রায় ৩০ টি নাকা চেকিং পয়েন্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই মুহূর্তে জেলায় নদী থেকে বালি উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ আছে। তবে, তার আগেই জুলাই মাসের প্রথম দু-একটি সপ্তাহে অবৈধভাবে চলা বালি খাদান এবং ওভারলোডিং করে বালি নিয়ে যাওয়া ট্রাক গুলিকে আটক করে মোটা অঙ্কের জরিমানা করেছিল জেলা পুলিশ। এর সাথে, সারা জেলা জুড়ে কোভিড বিধি অমান্য করে বিনা মাস্কে ঘুরে বেড়ানো এবং নাইট কারফিউ ভেঙে অকারণে ঘোরাফেরা করা ব্যক্তিদেরও জরিমানা করা হয়েছে। এর সঙ্গে আছে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের জরিমানা সহ নানাবিধ জরিমানার তালিকা। সবমিলিয়ে, গত ২ মাসে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ জরিমানা বাবদ আদায়কৃত যে টাকা রাজ্যের কোষাগারে জমা দিয়েছে, তা শুনলে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ হতে বাধ্য! স্বয়ং জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “গত ২ মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা জরিমানা বাবদ আদায় করেছে জেলা পুলিশ। তা জমা দেওয়া হয়েছে রাজ্যের কোষাগারে।”

thebengalpost.in
জেলা প্রশাসনের অভিযান :

অন্যদিকে, নদী থেকে বালি উত্তোলন এবং বালি সরবরাহ এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুনরায় অনুমোদন মিললে বালি সরবরাহ ফের শুরু হবে। কিন্তু, লুকিয়ে চুরিয়ে বালি পাচার হচ্ছে কিনা তা দেখতে নজর দারি চালাতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষ হয় মঙ্গলবার ভোর চারটায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) তুষার সিংলা নেতৃত্ব দেন এই অভিযানে। রাজ্য থেকেও এসেছিলেন এক আধিকারিক। অভিযান চালানো হয় মেদিনীপুর, চন্দ্রকোনা, গড়বেতা, ঘাটাল, দাঁতন, ডেবরা সহ বেশ কয়েকটি রাস্তায়। রাজ্য সড়ক থেকে শুরু করে জাতীয় সড়কেও চলে অভিযান। ভূমি দপ্তর ছাড়াও জেলার পরিবহন দপ্তর এবং জেলা পুলিশ অংশ নিয়েছিল অভিযানে। ওভারলোডিং করে ইট, সিমেন্ট তৈরির ছাই নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বেশ কয়েকটি গাড়ি আটক করে প্রশাসন। অপরদিকে, ডেবরা এবং নারায়ণগড় টোল গেটের সামনে সিসি ক্যামেরা এবং ওয়েব কাস্টিং এর মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার বলেন, “সিসি ক্যামেরা ছাড়াও বডি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ওয়েব কাস্টিং এর মধ্য দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। সুপিরিয়র অফিসারদের দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। বালি ছাড়াও ওভারলোডিং গাড়ি চলছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে।” অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) তুষার সিংলা বলেন, “দু’দিন ধরে জেলায় অভিযান চালানো হয়েছে। সোমবারের অভিযানে গিয়ে কোথাও বালি গাড়ি যেতে দেখা যায় নি। রাস্তার ধারে খালি বালি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। তবে অন্যান্য জিনিস নিয়ে যাওয়া কয়েকটি ওভারলোডিং গাড়ি আটক করা হয়েছে।”

thebengalpost.in
অভিযান জাতীয় ও রাজ্য সড়কে :