দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩১ অক্টোবর: বিদ্যাসাগর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের (Vidyasagar Central Co-operative Bank, Midnapore) ‘চেয়ারম্যান’ পদ থেকে ‘ইস্তফা’ দিলেন প্রদীপ পাত্র। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭-মে ‘নবজোয়ার’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে পশ্চিম মেদিনীপুরে এসেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে জঙ্গলমহলের শালবনীতে নবজোয়ারের সভাও হয়েছিল। পরদিন (২৮ মে) দুপুরে দলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল নেতৃত্বদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন অভিষেক। সূত্রের দাবি, বৈঠকে তিনি সবার কথা শুনেছিলেন মন দিয়ে। শুনিয়েছিলেন তাঁর গোপন রিপোর্টের কথাও! দিয়েছিলেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের ‘চেয়ারম্যান’ পদ থেকে প্রদীপ পাত্র-কে সরানোর বার্তা ছিল তার মধ্যে অন্যতম। শোনা যায়, এজন্য অভিষেক দায়িত্ব দিয়েছিলেন দলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা, চেয়ারম্যান দীনেন রায়, মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইয়া প্রমুখ-কে। এদিকে, পদে থাকতে মরিয়া ছিলেন প্রদীপও! নানা-টালবাহানায় কেটে গিয়েছে ৫ মাস। অবশেষে, দলের কড়া মনোভাবে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ব্যাঙ্ক পরিচালন সমিতির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে, সদস্যদের উপস্থিতিতে (বোর্ড অফ ডাইরেক্টরসদের উপস্থিতিতে) ‘চেয়ারম্যান’ (Chairman) পদ থেকে ‘ইস্তফা’ দেন বা ‘পদত্যাগ’ করেন প্রদীপ পাত্র।

thebengalpost.net
প্রদীপ পাত্র (ফাইল ছবি):

শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া এদিন বোর্ডের (বা, ব্যাঙ্ক পরিচালন সমিতির) বাকি ১৩ জন ডাইরেক্টরই উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁদের উপস্থিতিতেই প্রদীপ পদত্যাগ করেন। বাকিরা তাঁর এই সিদ্ধান্ত-কে স্বাগত জানিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিষেকের দপ্তরে একাধিক অভিযোগ পৌঁছেছিল বলে জানা যায়। একসময়ের শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা তথা মোহনপুর ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক প্রতারণা থেকে শুভন্দু-ঘনিষ্ঠতা’র অভিযোগ ছিল। স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখেই শালবনীতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বলে দলেরই একটি সূত্রে খবর। এ প্রসঙ্গে অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দলেরই এক কর্মীর ছেলেকে প্রাথমিকের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল প্রদীপ পাত্রের বিরুদ্ধে। দলের চাপেই সম্প্রতি সেই টাকা তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন বলেও জানা যায়। তা সত্ত্বেও অবশ্য ‘চেয়ারম্যান’ পদ ছাড়তে চাননি প্রদীপ। তাই, অভিষেকের নির্দেশের পর ৫ মাস কেটে গেলেও ‘পদত্যাগ’ করেননি তিনি। শেষমেষ অবশ্য দলের চাপের কাছে নতি-স্বীকার করতে বাধ্য হন পেশায় শিক্ষক, মোহনপুরের এই তৃণমূল নেতা। এই বিষয়ে প্রদীপ পাত্রের কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া না গেলেও, বোর্ডের বেশ কয়েকজন ডাইরেক্টর বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।

তবে কি দলের চাপেই ‘পদত্যাগ’ করতে বাধ্য হলেন প্রদীপ পাত্র? দলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা জানান, “বিদ্যাসাগর সমবায় ব্যাংকের ভালো-মন্দ নিয়ে আমাদের দল তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা ওয়াকিবহাল। তাই, এই বিষয়ে আমাদের প্রিয় সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল। সেই নির্দেশ আগেই পালন করা উচিত ছিল! শুনলাম আজ উনি পদত্যাগ করেছেন বোর্ড অফ ডাইরেক্টরসদের উপস্থিতিতে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শে ডাইরেক্টররা পরবর্তী চেয়ারম্যান বেছে নেবেন খুব শীঘ্রই।” জানা যায়, আগামী ৯ নভেম্বর ব্যাঙ্ক পরিচালন সমিতি বা বোর্ড অফ ডাইরেক্টরসদের পরবর্তী বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। তার আগে ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ ঘোষ দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়েও তিনিই এগিয়ে আছেন বলে মত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের। যদিও, এই বিষয়ে ‘অভিজ্ঞ’ আরও বেশ কয়েকজন দৌড়ে আছেন বলেও দাবি বিভিন্ন সূত্রের!

thebengalpost.net
বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক, মেদিনীপুর:

thebengalpost.net
নির্দেশ এসেছিল শালবনীর এই বৈঠক থেকেই: