thebengalpost.net
সংক্রমণ কমলেও সচেতনতার বার্তা :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ২৯ জানুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সংক্রমণের হার আরও কমলো। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৮৮ জন (এর মধ্যে, ভিন জেলার ৪)। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১৯৬২-টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। স্বভাবতই, সংক্রমণের হার ৪.২৮ শতাংশ! যা গত কয়েকদিনের তুলনায় আরও কম। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের রিপোর্টে জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন যথাক্রমে- ৬৮ ও ৭৫ জন। সংক্রমণের হার ছিল ৭ ও ৬ শতাংশ। তবে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে ১ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। এই মুহূর্তের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আগের থেকে অনেকটাই ভালো।‌ তবে, সংক্রমণ পুরোপুরি চলেও যায়নি! এখনও, বড়রা ও শিশুরা সংক্রমিত হচ্ছেন। তবে, এই ভ্যারিয়েন্ট তুলনায় কম বিপজ্জনক বলেই রক্ষা! যদিও, মৃত্যু হচ্ছে মাঝেমধ্যেই ১-২ জনের। সেগুলির ক্ষেত্রে কো-মর্বিডিটি এবং ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট দায়ী বলে মনে করছেন আমাদের চিকিৎসকরা।” উল্লেখ্য যে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত ৮৮ জনের মধ্যে ৮ জনের বয়স ২ থেকে ৭ বছরের মধ্যে। সেক্ষেত্রে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সংক্রমণ সঙ্গে নিয়েই হয়তো পথ চলতে হবে, তাই সতর্কতা ও সচেতনতা প্রয়োজন!

thebengalpost.net
সংক্রমণ কমলেও সচেতনতার বার্তা :

এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩৫১২ জন।‌ সংক্রমণের হার কমে হয়েছে ৫.৬৫ শতাংশ। তবে, ভাবাচ্ছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় একই থেকে যাওয়া। গত তিনদিনে রাজ্যে গড়ে সাড়ে তিন হাজার জন করোনা সংক্রমিত হলেও, গত তিনদিনে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে- ৩৫ (শনিবার), ৩৪ (শুক্রবার) ও ৩৬ (বৃহস্পতিবার)। শুধু গত তিনদিন নয়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজ্যে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ৩০- এর উপরেই। এক্ষেত্রে, বিশেষজ্ঞরা নিরীহ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নয়, বিপজ্জনক ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট-কেই দায়ী করছেন! যা ভারতবর্ষ থেকে পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। আর, নেয়নি বলেই গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৭১ জনের! গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৩২ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯৩৯ জন।

thebengalpost.net
দেশের করোনা বুলেটিন :

এদিকে, ওমিক্রন বিদায় নেওয়ার আগেই ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, NeoCoV নামে করোনা ভাইরাসের নতুন একটি ভ্যারিয়েন্ট। তবে, এখনও অবধি এই ভ্যারিয়েন্ট শুধুমাত্র বাদুড়ের শরীরেই পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে! ‘NeoCov’ শব্দটি MERS-CoV-এর সঙ্গে যুক্ত ভাইরাসের একটি রূপ বোঝাতে ব্যবহৃত করা হচ্ছে। MERS-CoV করোনার বৃহৎ পরিবারের অন্তর্গত। এটি সাতটি করোনভাইরাসের মধ্যে একটি, যা মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। ২০১০- এ, MERS-CoV সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে এটি সঙ্কটের কারণ হয়ে উঠেছিল। RS-CoV-ও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে সঙ্কটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, MERS-CoV সংক্রমণে আক্রান্ত প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ মারা গেছেন। NeoCoV এই বিশেষ করোনা ভাইরাসের একটি সম্ভাব্য রূপ। তবে, গবেষণা অনুযায়ী, NeoCoV এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র বাদুড়ের শরীরেই পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধরণের মিউটেশনের পরেই মানুষের কোষগুলিকে সংক্রমিত করতে পারে। এনিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে, যেগুলি পরীক্ষাগারে গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে, সঠিক পর্যালোচনা এখনও বাকি। তাই, NeoCov নিয়ে এখনই ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।