দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ মে: গাছপালার (উদ্ভিদের) রোগ নির্ণয় করে সেইমতো কীটনাশক প্রয়োগ করে তা অনায়াসে সরিয়ে তুলবে অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট রোবট’ (Smart Robot)। সম্প্রতি, আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur)-এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একদল গবেষক তথা বিজ্ঞানী এটি আবিষ্কার করেছেন। সেইসঙ্গে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ হাতেকলমে সকলকে দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফার্ম বট’ (FarmBot)। ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের অর্থানুকূল্যে আইআইটি খড়্গপুরের অধ্যাপক ও গবেষকরা কৃষিক্ষেত্রে এই যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার প্রতিহার। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে প্রদীপ নাহাক, অতনু জানা সহ গবেষকদের একটি দল সেমি-অটোমেটিক ট্র্যাকড মোবাইল ম্যানিপুলেটরকে কাজে লাগিয়ে এই রোবোটিক সিস্টেমের উদ্ভাবন করেছেন। এতে একদিকে যেমন কীটনাশক স্প্রে করার সময় কৃষকদের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব কমবে, ঠিক তেমনই খাদ্যের মান এবং কৃষি উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন আইআইটি খড়্গপুরের বিজ্ঞানীরা।

অধ্যাপক দিলীপ কুমার প্রতিহার জানান, গত কয়েক বছর ধরে তাঁরা এর উপর অনেক গবেষণা করেছেন। ২০১৮ সালেই CDAC কলকাতা কর্তৃক আয়োজিত ‘কৃষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রবণতা এবং প্রয়োগ (TRACT)’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারে এই উন্নত কৃষি রোবটের ধারণাটি প্রথম উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি এও বলেন, “এর আগে কীটনাশক ছড়ানো বা গাছের কোনো রোগ নির্ণয়ের জন্য ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হত। তবে, এতে যেটা সমস্যা দেখা হত তা হলো, ড্রোন গাছের খুব কাছে নামবে না। এতে পাতারও ক্ষতি হয়। সর্বোপরি, ড্রোনের সাহায্যে গাছের উপরের অংশের ক্ষতির বিষয়ে জানা গেলেও, গাছের গোড়ার সমস্যা জানা যেত না। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ড্রোনের সাহায্যে কীটনাশক ছড়ানো বা ফসল পেকে এসেছে কিনা তা জানার মধ্যেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ রয়েছে। অত্যাধুনিক এই স্মার্ট রোবট উদ্ভিদের গোড়ার সমস্যা বুঝতে পারবে। তা নির্ণয় করতে পারবে। এটি একটি সেমি অটোমেটিক ট্রাকড মোবাইল ম্যানিপুলেটর। যা এগ্রিকালচার রোবোটিক সিস্টেম হিসেবে কাজ করতে সক্ষম।”
আইআইটি-র এই গবেষকদলের তরফে এও জানানো হয়েছে, এই স্মার্ট রোবট বা ‘ফার্ম বট’ দেখতে অনেকটা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ির মতো। জলকাদা, খানাখন্দে ভরা জমিতেও সহজেই নামতে পারবে এই রোবট। এতে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা রয়েছে। ফসলের ক্ষেতের কাছে নিয়ে গেলে পুরো ম্যাপিং করে এর মধ্যে থাকা বিভিন্ন এপ্লিকেশন কাজ শুরু করে দেবে। অধ্যাপক প্রতিহার এও জানান, “একেক রকম উদ্ভিদের একেক রকম রোগ হতে পারে। আলুর যেমন ধসা রোগ, তেমনই আমের মুকুলর পোকার আক্রমণ, ধান বা গমের ক্ষেত্রে জমির অম্লতার তারতম্যের জন্য ব্যাকটেরিয়াঘটিত কোনো রোগ হতে পারে। ফার্ম রোবটের কম্পিটারাইজড সিস্টেম সেই রোগ নির্ণয় করে সেইমতো জীবাণুনাশক বা কীটনাশক গাছের গোড়ায় স্প্রে করবে। এরমধ্যে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক ও কীটনাশক মজুদ থাকে। সেই কীটনাশকই স্প্রে করবে।”