দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ আগস্ট: গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার (১ আগস্ট) রাতে ‘রেল শহর’ খড়্গপুরের ব্যস্ততম ইন্দা সংলগ্ন বিদ্যাসাগরপুর এলাকায় ঘটে গেল যেন কোনও এক টানটান উত্তেজনা পূর্ণ ক্রাইম থ্রিলারের শুটিং! একই প্রাচীরের মধ্যে বাড়ি ও মুদি দোকান এক ব্যবসায়ীর। মঙ্গলবার রাতে কোন এক সময়ে, সুযোগ বুঝে এক দুষ্কৃতী বাড়ি ও দোকানের মাঝামাঝি কিছুটা অন্ধকার জায়গায় বন্দুক (বা, খেলনা বন্দুক) হাতে আত্মগোপন করে (লুকিয়ে) ছিল! রাত্রি সাড়ে ৯টা নাগাদ যেই না দোকান বন্ধ করে দোকানের মালিক মৃগাঙ্ক বিশ্বাস দু’এক পা ফেলে বাড়ির দিকে এগিয়েছেন, অমনি সেই দুষ্কৃতী ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর কপালে ‘বন্দুক’ ঠেকায়! প্রথমটায় কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও, নিজেকে সামলে নিয়ে প্রয়াত এক পুলিশ কর্মীর ছেলে ষাটোর্ধ্ব মৃগাঙ্ক বাবু এক ধাক্কায় ঠেলে ফেলে দেন দুষ্কৃতীকে। দুষ্কৃতীর হাত থেকে বন্দুক পড়ে যায় মাটিতে! এরপরই, মৃগাঙ্ক বাবু পালাতে গেলে দুষ্কৃতী তাঁর পাঞ্জাবির পকেট ধরে টান দেয়। তাতেই পকেটে থাকা টাকার বান্ডিল মাটিতে পড়ে যায়। সেই টাকা কোনমতে মাটি থেকে কুড়িয়ে, প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতী!

thebengalpost.net
সেই দোকান, দোকানের পিছনেই বাড়ি :

মঙ্গলবার রাত্রি সাড়ে ন’টা-দশটা নাগাদ এমনই এক গা ছমছমে ঘটনা ঘটে যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর টাউন থানার অধীন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বিদ্যাসাগরপুর (ইন্দা সংলগ্ন) এলাকার বিশ্বাস বাড়িতে। ঘটনার মিনিট কয়েকের মধ্যেই, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়্গপুর টাউন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দুষ্কৃতীর হাত থেকে পড়ে যাওয়া ওই বন্দুকটি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, নকল বা খেলনা বন্দুক হতে পারে! দুষ্কৃতীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছেন তাঁরা। তবে, ঘটনার পরই মৃগাঙ্ক বাবু’র স্ত্রী, সন্তান সহ এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে এক প্রকার সিঁটিয়ে গিয়েছেন! আতঙ্কে প্রায় কেঁদেই ফেলেন মৃগাঙ্ক বাবু’র স্ত্রী। কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলেন, “এই এলাকায় প্রায়ই চুরি হয়। এর আগে বাড়ি থেকে মোবাইল নিয়েও পালিয়ে গেছে ছিঁচকে চোরের দল। তবে, বাড়িতে ঢুকে এরকম হামলা এই প্রথম! আতঙ্কে এখনো কাঁপছি আমরা।” আতঙ্কিত এলাকাবাসীরাও জানান, “শহরের মধ্যে, মোটামুটি জনবহুল এলাকাতেই যদি এরকম পরিস্থিতি হয়, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা বলে আদৌ কিছু আছে কি?” এলাকার কাউন্সিলর তথা খড়্গপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তৈমুর আলি খানের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এই বিষয়ে। তবে, এলাকার নানা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে, ষাটোর্ধ্ব মৃগাঙ্ক বাবু যেভাবে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে দুষ্কৃতীকে কাবু করেছেন, তাতে কার্যত মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন এলাকাবাসী। বাহবা দিচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরাও। জানা যায়, মৃগাঙ্ক বাবু’র বাবা একসময় টাউন থানারই পুলিশ কর্মী ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে অবশ্য তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর ৫ ছেলের মধ্যে অন্যতম মৃগাঙ্ক বিশ্বাস। এই বয়সেও (বয়স ৬০-৬২) তিনি রীতিমতো সুঠাম চেহারা অধিকারী। তাঁকে ভয় দেখাতে বা কাবু করতে ব্যর্থ হয় ওই দুষ্কৃতী। তবে, পকেটে থাকা ৭ হাজার টাকা নিয়ে দুষ্কৃতী চম্পট দেয় বলে অভিযোগ তাঁর। ঘটনার ঘিরে তীব্র চঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

thebengalpost.net
উদ্ধার হওয়া বন্দুক: