দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ জানুয়ারি: আদতে কুল। দেখতে অনেকটা ছোট ছোট আপেলের মতো। তাই সকলে একে আপেল-কুল নামেই চেনেন। পোশাকি নাম অবশ্য ‘ভারতসুন্দরী কুল’। জঙ্গলমহলের লাল, অনুর্বর মাটিতেও এই কুলের চাষ করে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করে যুব সম্প্রদায়কে দিশা দেখাচ্ছেন মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সেবাভারতী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রশান্তকুমার দাস। মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির সহযোগিতায়, মেদিনীপুর শহরের উপকন্ঠে দেলুয়া এলাকায় ১৪ একর জমি লিজ নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ফরেস্ট পার্ক’ নামে এক স্বপ্নের বাগান। সেখানেই ৫ বিঘা জমিতে এই আপেল-কুল বা ভারতসুন্দরী কুলের চাষ করেছেন তিনি।
সেইসঙ্গেই এই শীতেও ওই বাগানে ফলিয়েছেন তিনি অলটাইম কাটিমন আম। বছরে দু’বার পাওয়া যায় এই আম। এর আগে গত মরশুমে এই বাগানে মিয়াজাকি, রেড পালমার, রেড আইভরির মতো মহা মূল্যবান আম ফলিয়েছেন তিনি। এই শীতে প্রশান্তবাবুর বাগানে আপেল-কুল, কাটিমন আম ছাড়াও ফলেছে পেঁপে, পেয়ারা প্রভৃতি ফল। শোভা পাচ্ছে রঙবেরঙ-এর নানা ফুলও। আর এই সমস্ত চাষই তিনি করেছেন জৈব সার প্রয়োগে। প্রশান্ত বাবু জানান, বাণিজ্যিক ভাবে যে পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি আপেল-কুল বা ভারতসুন্দরী কুলের চাষ করেছেন তাতে খরচ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মতো। অর্থাৎ, বিঘা প্রতি খরচ প্রায় ২৪-২৫ হাজার টাকা। তার বিনিময়ে বিঘা প্রতি ১ লক্ষ টাকা করে লাভ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় দেড়-দু’লক্ষ টাকার কুল বিক্রি করা হয়ছে বলেও জানান তিনি। জানুয়ারি মাসে আরও দু-তিন লক্ষ টাকার বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন বাংলা বিষয়ের এই সহকারী অধ্যাপক তথা বছর ৪০-এর উদ্যোগী যুবক। তিনি জানান, ফের মার্চ থেকে এই কুল গাছগুলির পরিচর্যা করলে পরবর্তী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আবারও কয়েক লক্ষ টাকার আপেল-কুল বিক্রি করা সম্ভব। প্রশান্ত বলেন, ‘জঙ্গলমহলের তরুণ প্রজন্মকে বিকল্প আয়ের সন্ধান দেখানোর উদ্দেশ্যেই বছরখানেক আগে আমরা গড়ে তুলি সৃজনী এগ্রো ফাউন্ডেশন। মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির সহযোগিতায়, আমাদের এই সংস্থার তরফে জঙ্গলের মাঝে এই ‘ফরেস্ট পার্ক’ গড়ে তুলে, সেখানে ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচার ও হার্টিকালচার প্রকল্পের কাজ করছি আমরা। রুক্ষ, অনুর্বর লাল মাটিতেও শুধুমাত্র জৈব সার প্রয়োগ করে এই ধরনের বিকল্প চাষ করে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব।’ যে কোন উৎসাহী যুবক বা সংস্থা যদি বিকল্প চাষের বিষয়ে তাঁদের সহযোগিতা চান, সেক্ষেত্রে সবরকমের সাহায্য করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মেদিনীপুর সদর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি উর্মিলা সাউ বলেন, ‘অধ্যাপক সহ ওঁদের এই সংস্থা খুব ভালো কাজ করছেন। অনেকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। সর্বোপরি, আমাদের এই মেদিনীপুর সহ জঙ্গলমহলের যুবকদের বিকল্প আয়ের দিশা দেখানোও সম্ভব হচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। আশা করব, ভবিষ্যতে আরও অনেক উৎসাহী তরুণরা এগিয়ে আসবেন।’
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ জানুয়ারি: একটা সময় অবধি বাঙালির 'ভ্যালেন্টাইনস ডে' মানেই…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৩ জানুয়ারি: তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ জানুয়ারি: জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানা শহীদ ক্ষুদিরাম…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ জানুয়ারি: অতীতের সমস্ত 'রেকর্ড' ভেঙে গেল আইআইটি খড়গপুরের…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ জানুয়ারি: নাবালক ভাইপোর হাতে খুন হলেন পিসি! রবিবার…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ জানুয়ারি: ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত গৃহস্থের বাড়ি। শীতের রাতে…