দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ সেপ্টেম্বর: “রাজ্যে ঝুলে থাকা চিটফান্ড কাণ্ডের মামলাগুলির দ্রুত সমাধান হোক এবং দোষীরা শাস্তি পাক”, মেদিনীপুরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে দাবি তুললেন সি পি আই এমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। চিটফান্ড মামলাগুলোর শীঘ্রই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত এবং তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মেদিনীপুর শহরে দলীয় বৈঠকে যোগদান করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, “চিটফান্ড কান্ডে যারা জড়িত বলে সন্দেহ, তাদের বেছে বেছে ডাকবার কোন মানে হয় না!” তিনি দাবি তুলেছেন “চিটফান্ড কান্ডে যারাই জড়িত তাদের সবাইকেই ডাকতে হবে, মুখ্যমন্ত্রী হলে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে হবে, বিরোধী দলনেতা জড়িত থাকলে তাঁকেও ডাকতে হবে। বেছে বেছে ডাকা হচ্ছে কেন!” তিনি এও অভিযোগ করেন, “একটা তদন্ত শেষ করতে ৭-৮ বছর লাগিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। কবে ভুক্তভোগীরা বিচার পাবে, আর কবে অপরাধীরা শাস্তি পাবে! সুপ্রিমকোর্টেও দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে।”

thebengalpost.in
বৈঠক শেষে মিছিল :

রাজ্যের রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং জাতপাতের মেরুকরণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সি পি আই এমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি দাবি করেছেন, “আগে রাম …পরে বাম” ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এই শব্দবন্ধ RSS ই চালু করেছিল। তিনি রাজনীতির এই পথকে “ভুলপথ” বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গেই তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাবে জানান, “রাজ্যে বামেদের অবস্থান খুব স্পষ্ট, কোন দ্বিচারীতা নেই।” অন্য দিকে, বাকি রাজনৈতিক দলগুলির “অন্তহীন দ্বিচারীতা” বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। ত্রিপুরা-তে যেভাবে সিপিআইএম সহ বামেদের উপর অত্যাচার শুরু হয়েছে, তাতে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন সূর্যকান্ত মিশ্র। সাংবাদিক বৈঠকের পর, বিকেলে কৃষক ভবন থেকে মিছিল বের হয়। এই মিছিল থেকে ত্রিপুরায় বিজেপির গনতন্ত্র হরণ সহ আক্রমণের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সর্বভারতীয় ধর্মঘটকে সফল করার আহ্বান জানানো হয়। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, জেলা সম্পাদক তরুণ রায়, প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ, রাজ্য নেতা রবিন দেব সহ কর্মীবৃন্দ। এই মিছিল কৃষক ভবন থেকে বেরিয়ে কর্নেলগোলা, রাজাবাজার গোলকুয়াঁর চক হয়ে কৃষক ভবনে সমাপ্ত হয়।