দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ জানুয়ারি: ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত গৃহস্থের বাড়ি। শীতের রাতে সব হারিয়ে হাহাকার করছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে ছুটে গিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক থেকে জনপ্রতিনিধিরা। শনিবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি থানার কুসুমপুর এলাকায়।

thebengalpost.net
ভয়াবহ আগুন:

thebengalpost.net
বিজ্ঞাপন (Advertisement):

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুসুমপুর এলাকার বাসিন্দা অন্নদাচরণ ভোল এবং তাঁর ভাইপো রাকেশ ভোল একই বাড়িতে থাকেন। পেশায় তাঁরা সম্পন্ন কৃষক। যৌথ পরিবারের প্রায় ১৪-১৫ জন সদস্য। শনিবার রাত্রি ৮টা নাগাদ হঠাৎই তাঁদের দ্বিতল মাটির বাড়ির ছাদ থেকে আগুন বেরোতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর তাঁদের চিৎকারে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন পরিবারের লোকেরা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সকলে। শীতের রাতে টিনের ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়িতে নিমেষের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তারমধ্যেই বালতি বালতি জল ঢেলে আগুন নিভানোর কাজ শুরু করেন স্থানীয়রা। পরিবারের সদস্যরা তখন প্রয়োজনীয় পোশাক-আশাক, টাকাপয়সা সহ যথাসাধ্য জিনিসপত্র বাঁচানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। কিন্তু, ধ্বংসাত্মক আগুনের প্রকোপে যৎসামান্য জিনিসই উদ্ধার করতে পারেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একটি ইঞ্জিন। পৌঁছন কেশিয়াড়ি থানার পুলিশ আধিকারিকরাও। ছুটে যান গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রুমা রাউত সহ ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরাও। প্রায় এক ঘন্টার প্রচেষ্টায় দমকল যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, ততক্ষণে বাড়ির বেশিরভাগ অংশই ভস্মীভূত হয়ে যায়। পুড়ে ছাই হয়ে যায় লক্ষাধিক টাকা আসবাবপত্র সহ গৃহস্থালির জিনিসপত্র। হাউ হাউ করে কাঁদতে থাকেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য-সদস্যারা। শীতের রাতে সহ হারিয়ে হাহাকার করতে থাকেন অন্নদাচরণ বাবু সহ বাড়ির সকলে। বুকফাটা আর্তনাদ নিয়েই তাঁরা জানান, ‘কিভাবে আগুন লাগল, বুঝতে পারছিনা! শর্ট সার্কিট হতে পারে।’ বাড়ির গৃহবধূ সায়ন্তিকা ভোল, কোনমতে কান্না থামিয়ে বলেন, ‘বাড়ির পাশেই ট্রান্সফর্মার ছিল, সেখান থেকেই আগুন লেগেছে কিনা বুঝতে পারছিনা! প্রতিবেশীদের চিৎকারে আমরা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসি।’ পুলিশ ও দমকলের আধিকারিকরা জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে, প্রাথমিক অনুমান শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে বাড়িতে। কুসুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রুমা রাউত বলেন, ‘মর্মান্তিক ঘটনা! খবর পেয়েই ছুটে এসেছি। আমরা পরিবারের পাশে থাকব। প্রশাসনিকভাবে এবং মানবিকতার তাগিদে যতটুকু করা যায়, নিশ্চয়ই করব।’

অন্যদিকে, শনিবার বিকেলে, কেশিয়াড়ির নছিপুর এলাকায় একটি তেলেভাজা ও চায়ের দোকানে হঠাৎই আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। তাঁদের তৎপরতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে, আগুনে দোকানের বেশ কিছু সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে এদিন। দোকানের মালিক ঝাড়েশ্বর রাউত ও বিশ্বনাথ রাউত জানান, গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুন লেগে যায়। কয়েক হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

thebengalpost.net
আর্তনাদ পরিবারের: