দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ ফেব্রুয়ারি: ‘ছোটি ছোটি খুশিয়োমে খোয়ে হুয়ে হাম…।’ ছোট ছোট ভালোলাগার মুহূর্তগুলিই তো রঙিন করে তোলে এ জীবন। সামান্য ‘ডেলিভারি বয়’ হয়েও প্রেম দিবসের সকালে তা যেন সকলেকে আবারও একবার মনে করিয়ে দিলেন ‘মিনি ইন্ডিয়া’ খড়্গপুরের যুবক আমন। বাইকের পিছনে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার ব্যাগ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা নাগাদ গোলবাজার ব্রিজ সংলগ্ন সাউথ সাইডের ফুল বাজারে হাজির হয়ে যান আমন। বাইক থেকে নামার সময়টুকুও নেই। বাইকে বসেই একটি গোলাপ ফুলের তোড়া (বোকে)-র অর্ডার দেন আমন। ‘দাদা একটু তাড়াতাড়ি দিন না…’, তাড়া দেন আমন। দোকানদার গোলাপের তোড়া প্রস্তুত করতে করতেই বলে ওঠেন, ‘খুব তাড়া থাকলে, খাবারটা ডেলিভারি করেই এসো না! বানিয়ে রাখছি।’ প্রতিবাদ করে ওঠেন বছর ছাব্বিশ-সাতাশের আমন। বলেন, ‘না, ভালোবাসার মানুষের হাতে গোলাপ তুলে দিয়েই কাজ শুরু করব…সেজন্যই তো তাড়া দিচ্ছি। ১১টায় ডিউটিতে জয়েন করব।’


না, এরপর আর কথা বাড়াননি দোকানের মালিক। দ্রুত একটি সুন্দর গোলাপ ফুলের তোড়া বানিয়ে আমনের হাতে তুলে দেন। লাল টকটকে গোলাপের মাঝেই হলুদ ও গোলাপি রঙের ব্যাঙ্গালোর গোলাপ। খুশি হয়ে, দাম মিটিয়ে বাইকে স্টার্ট দেন আমন। হঠাৎই হাসিমুখে দোকানদার প্রশ্ন করে ওঠেন, ‘তোমার নাম কি?’ স্মিত হেসে যুবক উত্তর দেন, ‘আমন…।’ বলেই ধাঁ করে রওনা দেন প্রিয়তমার উদ্দেশ্যে। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন দোকানদার সহ উপস্থিত অন্যান্য ক্রেতারাও। দোকানদার তার সহকারীর কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিস ফিস করে বলেন, ‘সারাদিন ফুড ডেলিভারিতে ব্যস্ত থাকবে। তাই সকাল সকাল প্রেমিকার কাছে ফুল পৌঁছে দিচ্ছে…তারপর বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেবে।’










