দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ এপ্রিল: “আগে কাজটা হোক…নাহলে অসুবিধা আছে… বুঝতেই তো পারছো!” অপরপক্ষের বক্তব্য, “বায়োডাটা-টা আগে দাও…কাজও হবে, জয়েনিং (যোগদান)-ও হবে… একসাথে!” চাকরি যাওয়ার বাজারেই ফের সেই ‘চাকরি’ পাইয়ে দেওয়া নিয়ে বেনজির ‘দরাদরি’ পশ্চিম মেদিনীপুরে! চাকরি বা ‘কোনো কাজ’ করে দিলে তবেই তৃণমূলে যোগদান করবেন। এই শর্তেই ব্লক তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বিজেপি মন্ডল সভাপতির কথোপকথন! আর, সেই সংক্রান্ত অডিও ক্লিপ-ই ভাইরাল (Viral) হল সমাজমাধ্যমে (যদিও, এর সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গল পোস্ট ডিজিটাল)। স্বাভাবিক নিয়মেই, ওই মন্ডল সভাপতি থেকে ব্লক তৃণমূল নেতারা এই কথোপকথনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে, সূত্র বলছে, পুরোটাই সত্য ঘটনা!

আর এখানেই সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, “বেআইনিভাবে বা ঘুরপথে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কারণে একদিকে যখন তৃণমূলের একের পর এক নেতা-মন্ত্রী-বিধায়করা জেলের ঘানি টানছেন, আদালতের রায়ে যখন হাজার হাজার অবৈধ চাকরি বাতিল হচ্ছে; সেখানে বিজেপির একজন মণ্ডল সভাপতিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ‘টোপ’ কোন সাহসে দিচ্ছেন সামান্য ব্লক তৃণমূলের নেতারা?” তবে কি, ওই মণ্ডল সভাপতিকে কোনোমতে তৃণমূলের যোগদান করানোর জন্য শুধুমাত্র মৌখিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে? নাকি, এখনও ঘুরপথে নানা ধরনের চুক্তিভিত্তিক বা স্থায়ী কাজকর্ম হচ্ছে তৃণমূল নেতাদের হাত ধরে? প্রসঙ্গত, বুধবার একটি অডিও ক্লিপ সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে (যদিও সত্যতা যাচাই করেনি বেঙ্গল পোস্ট ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম)। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, ফোনের এক প্রান্তে আছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল সংগঠনের অন্তর্গত ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা। অন্য প্রান্তে আছেন, বিজেপির ঘাটাল সংগঠনের অন্তর্গত সবং মধ্য মন্ডলের সভাপতি অজিত দত্তগুপ্ত।

ভাইরাল ওই অডিওতে তৃণমূল তথা শাসকদলের নেতাকে বলতে শোনা যায়, “তাহলে আবু দা (সূত্রের দাবি, সবং ব্লক তৃণমূলের সভাপতি আবু কালাম বক্স)’র সঙ্গে যে কথা হয়েছে… তুমি তাহলে আগে বায়োডাটা দিবে, কাজটার জন্য জমা দিতে দিতে যোগদান হবে।” পাল্টা মণ্ডল সভাপতি বলেন, “কাজটা আগে না হলে অসুবিধা আছে! বুঝতে পারছ তো, কি বলতে চাইছি…চাকরি-বাকরি’র যা বাজার। সবার সরকারি চাকরিই চলে যাচ্ছে!” সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “কাজটা তাহলে হোক না…আমি তো বলেছি, অসুবিধা কিছু নেই!” শেষ পর্যন্ত বায়োডাটা দেওয়া নিয়ে কথা হয় (সত্যতা যাচাই করিনি আমরা)। এ বিষয়ে বুধবার আমাদের প্রতিনিধি কথা বলেন বিজেপির সবং মধ্য মণ্ডলের সভাপতি অজিত দত্তগুপ্ত’র সঙ্গে। তাঁর দাবি, “বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা মাত্র! এই বাজারে কেউ তৃণমূলের কাছে চাকরি চাইতে যাবে? এটা কেউ বিশ্বাস করবে? তাও আবার একজন ব্লক সভাপতি। আমার ভয়েস নকল করে আমার সম্মানহানি করার চেষ্টা করেছে মাত্র। নাহলে, প্রমাণ দিক ওঁরা, আমি তো চ্যালেঞ্জ করছি।” অন্যদিকে, ব্লক তৃণমূলের সভাপতি আবু কালাম বক্স এই বিষয়ে বলেন, “শুনেছি নাকি এরকম একটা অডিও বাজারে ছাড়া হয়েছে। এর সঙ্গে আমার বা তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো সম্পর্কই নেই। পুরোটাই কেউ বা কাদের নোংরা চক্রান্ত হতে পারে! তবুও, আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব।”

thebengalpost.net
মণ্ডল সভাপতি অজিত দত্তগুপ্ত :