দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৭ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা ঘুরে দেখল কলকাতার ভ্যারিয়েবল এনার্জি সাইক্লোটন সেন্টার (Variable Energy Cyclotron Centre/ VECC)। কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে, সংস্থার বিশেষ অনুমতি নিয়ে এই শিক্ষামূলক ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। মূলত, বিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিষয়ের শিক্ষক তথা বিশিষ্ট গবেষক সঞ্জয় পালের উদ্যোগেই বিখ্যাত এই পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ পায় স্কুল পড়ুয়ারা।

thebengalpost.net
পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের সামনে:

thebengalpost.net
বিজ্ঞাপন:

চলতি সপ্তাহে স্কুলের প্রায় ২৫ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে ভারতের অন্যতম শীর্ষ এই পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষকরা। সঞ্জয় বাবু ছাড়াও এই সফরে ছিলেন রসায়নের শিক্ষক পাপুন মণ্ডল, ইংরেজির শিক্ষক নয়ন ঘোষ। সঞ্জয় বাবু জানান, ‘VECC ভারতের অন্যতম শীর্ষ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র, যেখানে সাইক্লোট্রনের মাধ্যমে উচ্চশক্তির আয়ন ত্বরিত করে মৌলিক নিউক্লিয়ার গবেষণা ও চিকিৎসা-উপযোগী রেডিওআইসোটোপ উৎপাদন করা হয়। ভিজিটের সময় ছাত্রছাত্রীরা রুম টেম্পারেচার সাইক্লোটনের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। পাশাপাশি, প্রায় ১০ ফুট পুরু কংক্রিট ও সীসা (lead) দ্বারা বিশেষভাবে সুরক্ষিত সুপারকন্ডাকটিং সাইক্লোটন কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে যন্ত্রটি সরাসরি সচক্ষে পর্যবেক্ষণ করার এক বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করে। সেখানে তারা আয়ন বিম কীভাবে উৎপন্ন ও পরিচালিত হয়, কীভাবে শক্তিশালী সুপারকন্ডাকটিং চৌম্বক ক্ষেত্র কণাকে বৃত্তাকার পথে ত্বরিত করে এবং কীভাবে তা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে প্রেরণ করা হয়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে। পাশাপাশি রেডিয়েশনের প্রকৃতি, শিল্ডিং ব্যবস্থা, ডোজ মনিটরিং এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কিত খুঁটিনাটি বিষয়ও তারা শেখে।’ পাপুন বাবু ও নয়ন বাবু বলেন, ‘আধুনিক গবেষণাগার ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শন এবং বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। এটি তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব গবেষণার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করতে সক্ষম হবে বলেই আমাদের মনে হয়।’