দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ১৯ মার্চ: ‘মিনি ইন্ডিয়া’ খড়্গপুরে রাজনৈতিক সৌজন্য। কর্মীদের জয় শ্রীরাম আর জয় বাংলা স্লোগানের মাঝেই ‘করমর্দন’ যুযুধান দুই প্রার্থী দিলীপ ঘোষ ও প্রদীপ সরকারের। বুধবার রাতে রাজনৈতিক সৌজন্য দেখলেন রেল শহর খড়্গপুরের বাসিন্দারা। খড়গপুর সদরের কৌশল্যার শ্মশান কালীপুজোর মেলায় উপস্থিত হয়েছিলেন দু’জনই। সেখানেই পারস্পরিক কথোপকথন ও কর্মদন হয় দু’জনের মধ্যে। প্রতি বছরের মতো এবারও এই মেলায় উপচে পড়া ভিড়। আর সেই ভিড়কেই প্রচারের বড় মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবির—বিজেপি ও তৃণমূল। বুধবার রাতে প্রথমে মেলায় পৌঁছন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। মন্দিরে পুজো দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর মেলা প্রাঙ্গণ ছেড়ে রাস্তায় বেরোতেই মুখোমুখি হয়ে যান বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের। তাঁকে দেখেই থমকে দাঁড়ান প্রদীপ। আর ঠিক তখনই এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দেন দিলীপ ঘোষ। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এই সৌজন্য বিনিময় নজর কেড়ে নেয় সকলের।


অন্যদিকে, দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা। একদিকে ‘জয় শ্রীরাম’, উল্টোদিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। এপ্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, মানুষই ঠিক করবে কাকে জেতাবেন। প্রদীপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘এর আগেও প্রদীপের সঙ্গে আমার সৌজন্য বিনিময় হয়েছে। আমি যখন বিধায়ক ছিলাম, ও (প্রদীপ) খড়গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ছিল। দেখা হয়, কথা হয়। অসুবিধা কি আছে!’ প্রদীপ সরকার বলেন, ‘এই রাজনৈতিক সৌজন্য খড়্গপুরে সবদিনই আছে। রাজনৈতিক লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য থাকবে।’ সেইসঙ্গেই প্রদীপের কটাক্ষ, ‘কালীমন্দিরে এসেও ওরা (বিজেপি) জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছে। স্বয়ং রামচন্দ্র আজ জীবিত থাকলে লজ্জা পেতেন।’ সব মিলিয়ে, ধর্মীয় আবহের মধ্যেও রাজনৈতিক উত্তাপ স্পষ্ট। প্রচার যত এগোচ্ছে, ততই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আভাস মিলছে খড়গপুর সদর বিধানসভাতে।










