দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব মেদিনীপুর, ৬ জুন: পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি পৌরসভার গোডাউন থেকে লক্ষাধিক টাকার ত্রাণের ত্রিপল লুটের অভিযোগে শুভেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারীর নামে এফআইআর দায়ের হল কাঁথি থানায়! অভিযোগ যে, গত ২৯ শে মে, শনিবার কাঁথি পৌরসভার গোডাউন থেকে লক্ষাধিক টাকার ত্রিপল বের করে লরিতে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে এবং শুভেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারী’র মদতে এই কাজ করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় জড়িত পৌরসভার কর্মী হিমাংশু মান্না ও প্রতাপ দে’র সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারী’র বিরুদ্ধেও একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয় কাঁথি থানায়। চুরি, লুটপাট, বিশ্বাসভঙ্গ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা। মামলা রুজু করেছেন, কাঁথি পৌরসভার পৌ-প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য রত্নদীপ মান্না।

thebengalpost.in
শুভেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারী’র নামে মামলা রুজু করা হল :

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত শনিবার (২৯ মে) দুপুরে কাঁথি পৌরসভার ডরমেটরি মাঠ সংলগ্ন পৌরসভার গোডাউন থেকে ত্রিপল বের করে লরিতে চাপানো হচ্ছিল। সেই সময় এক যুবক তা দেখতে পেয়ে, কাঁথি পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মাইতিকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কাঁথি পৌরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য সহ পুর প্রশাসক সিদ্ধার্থ মাইতি। শুভেন্দু অধিকারী প্রভাব খাটিয়ে এই ধরনের ঘটনা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর, পুর প্রশাসক মণ্ডলীর অন্য দুই সদস্য হাবিবুর রহমান, রত্নদীপ মান্না এবং কাঁথি শহর তৃণমূল কংগ্রেস সম্পাদক বিশ্বজিৎ মাইতি ও কাঁথি শহর যুব তৃণমূল নেতৃত্ব সুরজিৎ নায়কের অভিযোগ অনুযায়ী, গোডাউনে দায়িত্বে থাকা পুরসভার কর্মচারী হিমাংশু মান্নাকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হিমাংশু মান্নার অভিযোগ, “শুভেন্দু অধিকারীর কিছু ব্যক্তিগত ত্রিপল পুরসভার গোডাউনে জমা ছিল। সেই সমস্ত ত্রিপল নেওয়ার জন্য লোক পাঠিয়েছিল তিনি।” কিন্তু, ওই ত্রিপলগুলিতে সরকারি লোগো রয়েছে বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য যে, পৌরসভার কর্মী হিমাংশু মান্না অধিকারী পরিবারের ঘনিষ্ঠ এবং নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর একসময়ের কনফিডেনশিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন। কিন্তু, পৌরসভার চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া এইভাবে ত্রাণের ত্রিপল বের করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ পৌরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্যরা। এরপর, শুভেন্দু ও সৌমেন্দু সহ ৪ জনের নামে কাঁথি থানায় এফআইআর দায়ের করেন পৌর প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য রত্নদীপ মান্না।

thebengalpost.in
কাঁথি থানা (ফাইল ফটো) :

অন্যদিকে, চাকরি দেওয়ার নাম করে ২ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে শনিবার রাখাল দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সেচ মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে ওই ব্যক্তি টাকা নেয় বলে অভিযোগ। এই দুই ঘটনার প্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত অধিকারী পরিবারের মেজ ছেলে শুভেন্দু অধিকারী ও ছোটো ছেলে সৌমেন্দু অধিকারী’র কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে তাঁদের বাবা শিশির অধিকারী একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “দুই ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।‌ খুব তাড়াতাড়ি সত্য বেরিয়ে আসবে।”