দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৩ ডিসেম্বর: জীববৈচিত্র্য গবেষণায় এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ডি. ক্রিস্টিন কার্গিল-এর সঙ্গে যৌথ গবেষণায় বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা (Botany) বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষকরা আবিষ্কার করলেন এক নতুন উদ্ভিদ প্রজাতি। আর এই উদ্ভিদ প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরেরই ভাদুতলার জঙ্গল থেকে। বায়োফ্রাইট (Bryophyte)-এর লিফি লিভারওয়ার্ট (Leafy Liverworts)-এর অন্তর্গত নতুন এই উদ্ভিদ প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে ফসোমব্রোনিয়া বেঙ্গালেনসিস (Fossombronia bengalensis)। যেহেতু এই আবিষ্কারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরাই যুক্ত এবং এখনও পর্যন্ত এই প্রজাতির উদ্ভিদ পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরেই পাওয়া গিয়েছে, তাই এই ধরনের নামকরণ বলে জানিয়েছেন গবেষকদলের প্রধান তথা বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক অমলকুমার মণ্ডল।
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার বা গবেষণাটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী (জার্নাল) -ফাইটোটাক্সা’ (Phytotaxa)-তে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষকদলে প্রফেসর অমলকুমার মণ্ডল ছাড়াও আছেন গবেষক রসিদুল ইসলাম। অধ্যাপক মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘পশ্চিম মেদিনীপুরের স্যাঁতসেঁতে ও ছায়াঘেরা শাল বনাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রসমীক্ষার সময় এই উদ্ভিদটি নজরে আসে। আকারে ক্ষুদ্র হলেও লিভারওয়ার্ট প্রজাতির এই উদ্ভিদগুলি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পৃথিবীর প্রাচীনতম স্থলজ উদ্ভিদের অন্যতম। প্রায় দু’বছরের প্রচেষ্টায় এই গবেষণা স্বীকৃতি লাভ করেছে। আমাদের এই গবেষণায় সবরকমভাবে সহযোগিতা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর কার্গিল এবং বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী ড. দেবেন্দ্র সিং।’
কীভাবে আলাদা এই নতুন প্রজাতি: গবেষকদের মতে, ফসোমব্রোনিয়া বেঙ্গালেনসিস (Fossombronia bengalensis) অন্যান্য পরিচিত প্রজাতির সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য রাখলেও এর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কারণে এটি স্বতন্ত্র—
১) অত্যন্ত ঢেউখেলানো ও অনিয়মিত পাতার গঠন।
২) পুরুষ ও স্ত্রী গাছ আলাদা। অর্থাৎ, এটি ডাইডায়োসিয়াস উদ্ভিদ (Dioecious plant)।
৩) গাঢ় বেগুনি বা লাল রঙের রাইজয়েড যুক্ত।
৪) ক্ষুদ্র আকারের স্পোর, যেগুলিতে জটিল নকশা রয়েছে।
অধ্যাপক অমলকুমার মণ্ডল বলেন, ‘এই আবিষ্কার, একদিকে যেমন ভারতের লিভারওয়ার্ট বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করল, ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গকে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল করল।’ তিনি এও জানান, এই প্রজাতিটি এখনো পর্যন্ত শুধুমাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরেই পাওয়া গেছে। ফলে এটি পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় (এন্ডেমিক) প্রজাতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেইসঙ্গেই অধ্যাপক মণ্ডল ও গবেষক রসিদুল ইসলামের আবেদন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অরণ্য ধ্বংসের ফলে এই ধরনের ক্ষুদ্র উদ্ভিদ মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এখনই সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়া জরুরি।
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৭ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা ঘুরে দেখল…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৬ ফেব্রুয়ারি: আইআইটি খড়গপুর ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা পাসপোর্ট কাম…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ ফেব্রুয়ারি: রক্তদান আন্দোলনে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ পশ্চিম মেদিনীপুর…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ ফেব্রুয়ারি: বুধবার সন্ধ্যায় মেদিনীপুর শহরের অদূরে গোপগড় ইকোপার্ক…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি: মারুতির সাথে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ! মেদিনীপুর শহরের…
দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ ফেব্রুয়ারি: বেপরোয়া ট্রাক্টরের ধাক্কায় মৃত্যু সাইকেল আরোহীর! ঘটনা…