দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৩ জানুয়ারি: তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হলো রাজ্য সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে। ‘প্রশাসক’ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন মহকুমাশাসক। বৃহস্পতিবারই চিঠি এসে পৌঁছেছে মহকুমাশাসক সুরভি সিংলা-র কাছে। অবিলম্বে তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ১৯ ডিসেম্বর (২০২৫) পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠায়, শো-কজ করা হয়েছিল তৃণমূল পরিচালিত খড়্গপুর পুরসভাকে।

thebengalpost.net
খড়্গপুর পুরসভা:

thebengalpost.net
বিজ্ঞাপন:

উল্লেখ্য যে, ৩৫ ওয়ার্ড বিশিষ্ট খড়্গপুর পুরসভাতে বর্তমানে ২৪ জনই তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর। এর মধ্যে ২০ জন তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। বাকি ৪ জন নির্দল, সিপিআই ও কংগ্রেস থেকে যোগদান করেন। ২০২২ সালে খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছিলেন প্রদীপ সরকার। তবে, মাত্র আট মাসের মধ্যেই (২০২২ সালের ডিসেম্বরে) দলীয় কাউন্সিলরা তাঁর বিরুদ্ধে ‘এককাট্টা’ হওয়ায়, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণী ঘোষকে। এবার কল্যাণীর নেতৃত্বাধীন পুর বোর্ডও ভেঙে দেওয়া হলো। বছর দুয়েক ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনছিলেন তৃণমূলের একাংশ কাউন্সিলর। শেষমেশ নাগরিক পরিষেবা প্রদানে বর্তমান পুরবোর্ডের ব্যর্থতার অভিযোগ সংক্রান্ত ‘মাস-পিটিশন’ জমা পড়ে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর। তার ভিত্তিতেই গত ১৯ ডিসেম্বর (২০২৫) রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের শো-কজ নোটিশ এসে পৌঁছয় পুরসভাতে। সেখানে বলা হয়, পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ না করা, নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়া, পর্যাপ্ত আলো না থাকা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে খড়্গপুর পুরসভার বিরুদ্ধে। এর যথাযথ উত্তর দিতে বলা হয় পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে। সর্বদলীয় মিটিং ডেকে শো-কজের উত্তরও দেওয়া হয়। যদিও, সেই মিটিংয়েও তৃণমূলের দু’জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেননা বলে জানা যায়। এরপরই, ২১ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিবের চিঠি এসে পৌঁছলো বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি)। যেখানে পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গেই আগামী ৬ মাস কিংবা নতুন বোর্ড গঠনের আগে অবধি মহকুমাশাসক সুরভি সিংলা-কে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনিয়ে বিদায়ী পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান কল্যাণী ঘোষ বলেন, ‘শো-কজের উত্তর দেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কাজও ঠিকঠাকই চলছিল। তারপরের বিষয় সম্পর্কে কিছু বলতে পারবনা।’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘এটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। এনিয়ে দলীয়ভাবে কোনও মন্তব্য করার অবকাশ নেই। শীর্ষ নেতৃত্ব যেভাবে বলবেন, সেইমতোই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ বিজেপি-র জেলা সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, ‘তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা নূন্যতম নাগরিক পরিষেবা প্রদানে ব্যর্থ! এখন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এইসব নাটক করে কোনও লাভ নেই। মানুষ উপযুক্ত জবাব দিয়ে দেবেন।’