দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ ডিসেম্বর: মিগজাউমের প্রভাবে সোমবার থেকেই চেন্নাইয়ের বিপর্যস্ত পরিস্থিতি। দক্ষিণের এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাএই বুধবার থেকে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া দপ্তর। পূর্বাভাস মেনেই বুধবার সন্ধ্যা থেকে জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে বাড়ে বৃষ্টির পরিমাণ। শুক্রবারের আগে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এদিকে, বৃহস্পতিবার বেলা পর্যন্ত তুমুল বৃষ্টিপাতে একপ্রকার দফারফা পাকা ধান আর সদ্য রোপন করা আলুর!

thebengalpost.net
আলু জমি :

এর ফলেই মাথায় হাত পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী, গড়বেতা, গোয়ালতোড় থেকে শুরু করে ঘাটাল, চন্দ্রকোনা প্রভৃতি এলাকার কৃষকদের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, “যে টুকু আলু লাগিয়েছিলাম পুরোটাই নষ্ট হয়ে যাবে। জমিতে প্রায় এক হাঁটু করে জল জমে গেছে। জল কাটিয়েও কিছু করা যাবেনা। পুরো আলুটাই পচে যাবে।” এদিকে, ওই জমিতে অন্য কোন ফসলও লাগানো যাবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তাঁদের বক্তব্য, আলু লাগানোর আগে যে সমস্ত সার বা কীটনাশক দিয়ে আলুর জমি তৈরি করা হয়, ওই জমিতে অন্য কোন ফসল করাও যাবে না। শুধু তাই নয়, আলু বীজের যা দাম তাতে দ্বিতীয়বার আলু লাগানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন হতাশ কৃষকরা!

thebengalpost.net
পাকা ধানে মই মিগজাউমের:

সর্বোপরি, শস্যবীমা-তে নাম নথিভুক্ত করার আগেই ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’-র মতো এই দুর্যোগ এসে হাজির হওয়ায়, চরম বিপাকি জঙ্গলমহলের আলু চাষিরা। অন্যদিকে, পাকা ধানেও কার্যত মই চালিয়েছে মিগজাউম! মাঠে থাকা পাকা ধান জলে ডুব দিয়েছে। ফলে ধানেরও ব্যাপক ক্ষতি হতে চলেছে বলে কৃষকদের দাবি। এই বিষয়ে জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা দুলাল দাস অধিকারী বলেন, “ধানের ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষতি হয়নি বলেই এখনও পর্যন্ত আমাদের অনুমান। জেলার প্রায় ৭৫-৭৬ শতাংশ ধানই কাটা হয়ে গেছে এবং কৃষকরা তা ঝাড়াই-মাড়াইও করে নিয়েছেন। অল্প যেটুকু আছে, আশা করি বিশেষ ক্ষতি হবেনা। তবে, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার আগে পর্যন্ত সবটা বলা সম্ভব হবে না।” যদিও, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে যাঁরা শস্যবীমায় নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর আলু লাগানো হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলার উপ কৃষি অধিকর্তা। সেক্ষেত্রে কৃষকদের প্রতি তাঁর বার্তা, জমি থেকে আপাতত জল বের করার ব্যবস্থা করতে হবে। বিকেল থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হলে, ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, “আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আলুর ক্ষেত্রে শস্যবীমায় নাম নথিভুক্ত করা যাবে।” সেক্ষেত্রে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন এবং পুনরায় ওই জমিতে আলু লাগাতে পারবেন বলেও জানিয়েছে কৃষি দপ্তর। অপরদিকে, বৃহস্পতিবার দিনভর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও, শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার উন্নতি হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

thebengalpost.net
জলে ডুবে জমি: