দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ আগস্ট: একেই বোধহয় বলে বানরের বাঁদরামি! আকারে হনুমান (Langur)-এর থেকে ছোটখাট হলেও, তাণ্ডবে যে কোন অংশে কম যায়না তা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন শালবনীবাসী। গত ৭-৮ দিন ধরে আঁচড়ে-কামড়ে এই এলাকার প্রায় ৩৫ জনকে জখম করেছে একটি ছোট্ট বানর (বা, বাঁদর/Macaques)। এর মধ্যে ৩-৪ জনের অবস্থা রীতিমত আশঙ্কাজনক বলেও দাবি স্থানীয়দের। বানরের জ্বালায় যে শালবনী ও সংলগ্ন দু’তিনটি গ্রামের লোকজনদের প্রাণ ওষ্ঠাগত তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থেকে বিডিও অবধি। তবে ওই দুষ্টু বানরটিকে ধরতে অবশ্য চেষ্টার ত্রুটি করছেনা বনদপ্তর। বুধবার সারারাত ধরে চেষ্টা করেও অবশ্য ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন আড়াবাড়ি রেঞ্জের বনকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ অফিসার।

thebengalpost.net
ছাদের উপর বসে সেই বাঁদর:

thebengalpost.net
বিজ্ঞাপন (Advertisement):

বনদপ্তর ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী ব্লকের শালবনী এলাকায় হঠাৎই আবির্ভূত হয়েছে একটি ছোটখাট বানর (বাঁদর)। গত ৭-৮ দিন ধরে তার তাণ্ডবে অতিষ্ঠ শালবনী, চকতারিণী, তিলাখুলা প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দারা। যখন-তখনই হঠাৎ করে আক্রমণ করছে শিশু, মহিলা, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে পথচারীদের। ঢুকে পড়ছে রান্নাঘর থেকে শোওয়ার ঘরে অবধি। দু’দিন আগে খোদ বিডিও অফিসের কোয়ার্টারেও ঢুকে পড়েছিল বলে জানান স্বয়ং বিডিও রোমান মন্ডল। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বলেন, “হঠাৎই কোথা থেকে এর আগমন হয়েছে। অনেককেই জখম করেছে। ৩-৪ দিন ধরে বনদপ্তর চেষ্টা চালালেও এখনও ধরতে পারছেনা। বুধবার তো সারা রাত ধরে অভিযান চালানো হয়েছে!” এলাকার বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক তথা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ সন্দীপ সিংহ বলেন, “হঠাৎই একটি বাঁদরের আক্রমণে আতঙ্কিত এলাকার মানুষ। শিশু, মহিলা শিশু সহ ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হঠাৎ একজনের ঘাড়ে লাফ মেরে দেওয়ায় তাঁর ঘাড়ের স্নায়ু (নার্ভ) ছিঁড়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিবারের লোকজন তাঁকে চেন্নাই নিয়ে গিয়েছেন। এছাড়াও, আরও ২-৩ জনকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী জানিয়েছেন, “বাঁদরের আক্রমণে আহত বেশ কয়েকজনের চিকিৎসা চলছে শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।”

thebengalpost.net
পাতা হয়েছে জাল:

এই বিষয়ে আড়াবাড়ি রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার বাবলু মান্ডি বলেন, “ছোট্ট একটি বানর। ধরতে একেবারে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আছে। বুধবার সারারাত ধরে চেষ্টা করেছি আমরা। কিছুতেই জালে পড়ছেনা! এদিক-ওদিক দৌড়ে পালাচ্ছে। ফলমূল সহ নানা টোপ দিয়েও লাভ হয়নি। তবে, আমরা নজরেই রেখেছি। বিকল্প কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে হলেও, ওকে ধরবই।” বন্যপ্রাণী গবেষক রাকেশ সিংহদেব বলেন, “হনুমান ও বানর একই প্রজাতির। শুধু চেহারার কিছু পার্থক্য আছে মাত্র। এদের আঁচড় বা কামড় থেকেও র‍্যাবিস ছড়াতে পারে। তাই, আক্রান্ত হলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া প্রয়োজন।”

thebengalpost.net
প্রাচীরের উপরে সেই মূর্তিমান: